ফেসবুক মার্কেটিংঃ সফল হবার মূলমন্ত্রঃ পার্ট ১

ফেসবুক মার্কেটিংঃ সফল হবার মূলমন্ত্র

ফেসবুক মার্কেটিং কি?

পৃথিবীর সবথেকে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের হল ফেসবুক। বর্তমান সময়ে পৃথিবীর প্রায় প্রতিটা দেশে এর জনপ্রিয়তা অনেক বেশী। ফেসবুকের মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহারকারির কাছে কোন প্রতিষ্ঠান, পন্য বা সেবার প্রচারণা করে দেয়াকেই হল ফেসবুক মার্কেটিং।

কেন করবেন?

আগেকার যুগে বিজ্ঞাপণের মাধ্যম হিসেবে নিউজ পেপার, টিভি এসবকে আদর্শ হিসেবে ধরা হত। কিন্তু আজকের এই ডিজিটাল যুগে অন্যতম মাধ্যম গুলো হল ফেসবুক, ইউটিউব, গুগল । এগুলোর মধ্যে ফেসবুকে বিজ্ঞাপণ দেওয়া সব চেয়ে উত্তম বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে।

২০১৬ সালের জরিপ অনুসারে ফেসবুকের মাসিক একটিভ ব্যবহার কারির সংখ্যা .৮৬ বিলিয়ন। প্রতিদিন ফেসবুক ইউজারের সংখ্যা .১৫ বিলিয়ন। মোবাইলে ফেসবুক ইউজ করে এমন ইউজারের সংখ্যা .৭৪ ফেসবুকে প্রতিদিন ছবি আপলোড এর সংখ্যা ৩০০ মিলিয়ন। ফেসবুকে প্রতি ভিজিটরের এভারেজ টাইম স্পেন্ড ২০ মিনিট।  প্রতি মিনিটে ,১০,০০০ কমেন্টস, ,৯৩,০০০ স্ট্যাটাস এবং ,৩৬,০০০ ছবি আপলোড হয়ে থাকে। ফেসবুকে ১৬ মিলিয়ন লোকাল বিজনেস পেজ তৈরি করা হয়েছে। ৪২ % ব্যবসায়ী মনে করেন ফেসবুক তাদের বিজনেসের প্রধান হাতিয়ার। ১৮২৪ বছর বয়সী ব্যবহারকারীর মধ্য ৫০% ব্যবহারকারী ঘুম থেকে উঠেই ফেসবু ব্যবহার করে বা বলা যায় ফেসবুকে এসেই তাদের ঘুম ভাঙ্গে। এক প্রতিবেদনে বলা হয় ফেসবুক ব্যবহারকারি প্রতি বছর ১৭% হারে বাড়ে এবং এটি ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।  [সংগ্রহকৃত]

একটু চিন্তা করুন ২০১৭ সালে ফেসবুকের একটিভ ব্যবহারকারী ১৮৬ কোটি সেখানে হটস এপ এর ব্যবহারকারী ৫০ কোটি, টুইটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২৮ কোটি ৪০ লাখ সেখানে আপনি ফেসবুকে মার্কেটিং করবেন না তো কোথায় করবেন। বিজ্ঞাপনের জন্য এত পরিমান কাস্টমার আপনি কোথায় পাবেন ! ফেসবুকের অন্য যোগাযোগের মাধ্যম ইন্সটাগ্রাম এর ব্যবহারকারী ৬০ কোটি

ফেসবুক মার্কেটিং কিভাবে করবেন?

ফেসবুক মার্কেটিং আপনি দুইভাবে করতে করতে পারেন। প্রথমটি হলঃ আনপেইড মার্কেটিং, আর পরেরটিঃ পেইড মার্কেটিং।

আনপেইড মার্কেটিং ও গুরুত্তপূর্র টিপসঃ

প্রথমেই বলে রাখি আনপেইড মার্কেটিং করতে হলে অবশ্যই আপনাকে একটি স্ট্যান্ডাড ফেসবুক প্রোফাইল মেইন্টেইন করতে হবে। আমাদের অনেকেরই একটু ভুল ধারণা আছে বা আমরা সব সময় এটি ভুল করি যে আনপেইড মার্কেটিং সময় আমরা যেন-তেন একটি প্রোফাইল ব্যবহার করি। এটি আপনার জন্য খুব বেশি সুফল বয়ে আনবে না। বরং ভবিষ্যত অনলাইন মার্কেট এর জন্য খারাপ ফলাফল বয়ে আনবে।

এবার আসুন আলোচনা করা যাক কিভাবে পেইড মার্কেটিং এর পাশাপাশি আনপেইড মার্কেটিং আপনার সফলতাকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবেঃ

পদক্ষেপ

আনপেইড মার্কেটিং এর জন্য স্ট্যান্ডাড একটি ফেসবুক প্রোফাইল মেইন্টেইন করুন। পারসোনাল প্রোফাইল সব থেকে ভাল তবে আপনি যদি পারসোনাল প্রোফাইল ব্যবহার করতে না চান তবে পারসোনাল প্রোফাইলের মত করেই আরেকটি প্রোফাইল তৈরি করে কাজে লেগে যান।

পদক্ষেপ

ব্যবসা কেন্দ্রিক ফেসবুক গ্রুপ গুলোর একটি লিস্ট তৈরি করুন। আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপণ এখানে পোষ্ট করুন। মনে রাখবেন একই গ্রউপে বার বার যেন পোষ্ট না করেন। এই জন্য একটা বিরতি দিয়ে পোষ্ট করুন।

পোষ্ট করতে পারেন দুইভাবেঃ পেজ থেকে শেয়ার করতে পারেন অথবা প্রোডাক্ট এর ছবি সরাসরি পোষ্ট করতে পারেন। পেজ থেকে শেয়ার করলে আপনার পেজটাকে সবাই জানবে, সেখান থেকে যে কাস্টোমার আপনি পাবেন তা রেগুলার কাস্টোমারে পরিণত হবে।

তবে অনেক সময় দেখা দেখা প্রডাক্ট এর ছবি সরাসরি পোষ্ট করলে সেল বেশি হয়। পরামর্শ এই যে আপনি দুটি পদ্ধতি অবলম্বণ করবেন।

পদক্ষেপ

আপনার কাস্টোমারদের মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে রাখুন। একবার একটা পণ্য কিনলেই তার সাথে সম্পর্ক শেষ করে দিবেন না। নতুন ও আর্কষণীয় প্রোডাক্ট আসলে তাকে এস এম এস এর মাধ্যমে জানতে পারেন।

এই ব্যাপারে আপনি বাল্ক এস এম এস ও ব্যবহার করতে পারেন। যেকোন নাম্বারে ৪০ পয়সা বা তার কমেও বাল্ক এস এম এস পেতে পারেন। অথবা নিজেদের মোবাইল নাম্বার থেকেও ম্যাসেজ পাঠাতে পারেন।

পদক্ষেপ

নতুন কোন কাস্টোমার প্রডাক্ট কেনার সময় মোবাইল নাম্বার দিলে পণ্য পাঠানোর আগে ও পরে তাকে মোবাইলে কল করে জানান। এটাকে বলে হিউম্যানবিজনেস ইন্টারঅ্যাকশন। আজকের যুগে এই বিষয়টা একেবারেই কমে গেছে। যেটা খুবই জরুরি।

এটা করলে আপনার কয়েক ধরণের লাভ হবে। আপনি জানতে পারবেন কাস্টোমার আসলেই প্রোডাক্টটি নিবে কিনা। আর পরবর্তীতে আপনার প্রতি তার একটি ভাললাগা জন্মাবে।

 

 পদক্ষেপ

বিভিন্ন অকেশনে কাস্টোমারদের শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান। এতে করে সেই কাস্টোমার আপনাকে বেশিদিন মনে রাখবে।

পদক্ষেপ

পণ্য পাঠানোর পাশাপাশি কাস্টোমারকে ছোট-খাটো গিফট পাঠাতে পারেন । এতে করে তাকে আপনি রেগুলার কাস্টোমার হিসেবেই পাবেন।

পদক্ষেপ

আপনার পেজে নিয়মিত পোষ্ট করতে হবে। প্রতিদিন অন্তত একটি পোষ্ট যেন থাকে পেজে। এতে করে অর্গানিক রিচ বাড়ে। 

আমি জানি আপনাদের হাতে বেশি সময় নাই প্রতিদিন পোষ্ট করার। কোন সমস্যা নাই।ফেসবুকে সিডিউল পোষ্ট অপশন ব্যবহার করে একদিনে আপনি অনেকদিনের জন্য অটো পোষ্ট রেডি করে রাখতে পারবেন।

পদক্ষেপ

আপনি নিজের একটি মার্কেটিং টিম বানাতে পারেন। সেখানে মেম্বার যত বেশি হবে তারা তত গ্রউপে আপনার প্রোডাক্ট পোষ্ট করতে পারবে। এতে আপনার সেল অনেক গুনে বেড়ে যাবে।

পদক্ষেপ

স্ঠিক সময়ে কাস্টোমারের ম্যাসেজের রিপ্লাই দিন। দেরিতে রিপ্লাই দিলে অধিকাংশ সময়ে আপনি কাস্টোমারটি হারাতে পারেন।

পদক্ষেপ১০

আপনার পেজ আপনার ব্রান্ড। এটাকে যত ভালভাবে সাজাতে পারবেন আপনার মার্কেট ভ্যালু ততটাই বেড়ে যাবে। মনে রাখবেন আপনার পেজের কাভার ফটো থেকে শুরু করে আপনার পোষ্ট লেখার ধরণ সবটাই ক্লাইট পাওয়া না পাওয়ার জন্য মূল ভুমিকা পালন করে।

পদক্ষেপ১১

ফেসবুকে লাইভ এখন অনেক জনপ্রিয়। বিভিন্ন গ্রউপের পাশাপাশি নিজের পেজে লাইভে গিয়ে প্রোডাক্ট সেল করার চেষ্টা করুন। সফল হবেন।

ফেসবুক মার্কেটিংঃ সফল হবার মূলমন্ত্র পার্ট-২