ডিজিটাল মার্কেটিংঃ আয় এবং ভবিষ্যৎ

ডিজিটাল মার্কেটিং,আয় এবং ভবিষ্যৎ

ডেকে ডেকে মধ্যযুগীয় স্টাইলে পণ্য বেচার দিন শেষ । আপনার কাস্টমারের সেই সময় কোথায় !আপনার কাস্টমার আপনাকে খুঁজে বেড়ায় ভার্চুয়াল জগতে । তাই আপনার পণ্যের মার্কেটিংটাও করতে হবে সেখানেই ।

মার্কেটিং বোঝেন না এমন মানুষ পাওয়া সত্যিই অসম্ভব । আর ডিজিটাল মার্কেটিং হলো এই মার্কেটিংটাই কোন ভার্চুয়াল মিডিয়াতে করা । অর্থ্যাৎ ডিজিটাল যেকোন পদ্ধতিতে ক্রেতার কাছে ভার্চুয়ালি আপনার পণ্য সম্পর্কে যেকোন বিষয় তুলে ধরে তাকে আকৃষ্ট করার পদ্ধতিকেই ডিজিটাল মার্কেটিং বলে ।

আর আপনি চাইলেই ঘরে বসে এই ডিজিটাল মার্কেটিং এর সাথে যুক্ত হয়ে মাসে মাসে কামিয়ে নিতে পারেন লক্ষাধিক টাকা ।

এখন ভাবছেন এটা আবার কিভাবে ? তাহলে চলুন দেখে নেয়া যাক কিভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং হতে পারে আপনার আয়ের একটা চমৎকার উৎস্য ।

ডিজিটাল মার্কেটিং জানা থাকলে আপনি বেশ কিছুভাবে উপকৃত হতে পারেনঃ

১। নিজের পণ্যের উপযুক্ত মার্কেটিং করার মাধ্যমে ।

২। অন্যের পণ্যের ডিজিটাল মার্কেটিং করে দিয়ে ।

৩। নিজে দক্ষ হয়ে অন্যকে এ ব্যাপারে ট্রেনিং প্রদানের মাধ্যমে ।

এবার দেখে নেওয়া যাক , বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে আয় করার সু্যোগ আর সম্ভাবনাগুলোঃ

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং- বিভিন্ন ওয়েবসাইটে, পোর্টালে কিংবা ভার্চুয়ালি অন্যের পণ্যের প্রচারণা চালিয়ে কমিশন উপার্জন করাকে এফিলিয়েট মার্কেটিং বলে ।

ধরুন, আপনি আপনার এক বন্ধুকে কোন একটা দোকানের রেফারেন্স দিলেন । আপনার বন্ধু সেই দোকানে গিয়ে আপনার রেফারেন্স উল্লেখ করে পণ্য কিনলেন । বিনিময়ে দোকানদার আপনাকে একটা কমিশন দিলে সেটাকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলে ।

এক্ষেত্রে আপনি একটা রেফারেন্স লিংকের মাধ্যমে কোন পোর্টালে অন্যের পণ্যের প্রচারনা চালাবেন । আপনার ঐ লিংক ব্যবহার করে সেই পণ্য কেনাবেচা করলে আপনি কমিশন পাবেন ।

সি,পি,এ মার্কেটিং- এটাও এক ধরনের অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং যেখানে কোন পণ্য বিক্রি  এবং ছোট-খাটো কিছু কাজের মাধ্যমে আপনি ইনকাম করতে পারবেন। এখানে প্রতিটি ছোট পদক্ষেপে পেমেন্ট পাওয়া যায় তাই একে cost per action  (‘কস্ট পার একশন’) বলে ।  

এজন্য আপনার একটা ওয়েবসাইট লাগবে । আপনার ভিজিটর বাড়ার সাথে সাথে আপনার পেমেন্টও বাড়তে থাকবে । ভাল মানের ট্রাফিক থাকলে বিনা বিনিয়োগে এই পদ্ধতিতে টাকা উপার্জন করা যায় ।

ব্লগিং- কাস্টমারের রুচিবোধ অনুযায়ী চলতে হবে আপনাকে । কাস্টমার এখন আর দোকানে গিয়ে পণ্য ধরে বেছে কিনেন না । পণ্য বিষয়ক যেকোন স্বিদ্ধান্ত নেয়ার আগে তাই সে গুগুল কিংবা ইন্টারনেটের সাহায্য নেয় । আধুনিক , শিক্ষিত ক্রেতারা তাই মুখ গুঁজে পড়ে ফেলেন পণ্য বিষয়ক লেখালিখি । আর সে জন্যেই ব্লগিং ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি উল্লেখযোগ্য টুল । আর এজন্য কোন পণ্য সম্পর্কে ভাল আর্টিকেল লিখে আপনিও আয় করতে পারেন মোটা অংকের টাকা । বর্তমান যুগে এই কনটেন্ট রাইটিং এর কদর বেশ । আপনার লেখার মান ভাল হলে ক্লাইন্ট আপনাকে নিজে খুঁজে বের করবেন । তাই ব্লগিং এর মাধ্যমেই কিন্তু শুরু করতে পারেন ডিজিটাল মার্কেটিং ।

এস,ই,ও (SEO): Search Engine Optimization এর মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করতে পারেন আপনি । কাস্টমাররা এখন যেকোন পণ্য সম্পর্কে সবার আগে আংগুলের চাপে খোঁজ করেন বিভিন্ন সার্চিং প্লাটফর্মে ।  আর সেক্ষেত্রে একদম শুরুর দিকে পণ্যের ভিজিবিলিটি নিশ্চিত করতেই এই ধরনের মার্কেটিং করা হয়ে থাকে । সাধারনত , পণ্য সম্পর্কিত শব্দ, গ্রাফিকসকে কাস্টমারের আগ্রহ অনু্যায়ী সার্চ ইঞ্জিনগুলোতে প্লেসমেন্ট করাই এস,ই,ওর প্রধান উদ্দেশ্য ।

গ্রাফিকস ডিজাইনঃ ডিজিটাল মার্কেটিং এর সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে এটি । গ্রাফিকস ডিজাইন জানা থাকলে যে কেউ শুধু ডিজাইন করে মাসে বেশ মোটা অংকের টাকা উপার্জন করতে পারে । তবে সেক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই ভাল ডিজাইন করা জানতে হবে কেননা এই কাজটি পুরোটাই দক্ষতা নির্ভর একটি কাজ ।

গ্রাফিক্স ডিজাইনের মাধ্যমে সাবলম্বি হতে চাইলে, এই কাজের সাথে সম্পর্কিত সব ক’টি বিষয়ে আপনাকে দক্ষ হতে হবে , যেমনঃ প্ল্যানিং,স্ট্রাকচারিং,ক্রিয়েটিং এবং আপডেটিং ।

একটি ক্লাটার ফ্রি ওয়েবসাইটের জন্যে খুঁটিনাঁটি যা যা কাজ করতে হয় তার সব কয়টিতে দক্ষ হয়ে আকর্ষনীয়ভাবে তা ক্লাইন্টের কাছে তুলে ধরতে পারলেই গ্রাফিক্স ডিজাইনে আপনি ভাল করতে পারবেন ।

সোসাল মিডিয়া মার্কেটিং- আপনার ক্লাইন্ট এলিয়েন নয় , মানুষ । তাই সে নিজেও দিনের অনেকটা সময় কাটিয়ে দেয় সোসাল মিডিয়াতে । তাই সোসাল মিডিয়াগুলো ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটা বিশাল মাধ্যম ।

আর এই সাইটগুলোটে ইমেজ, ভিডিও কিংবা এ্যাড হিসেবে পণ্যের যথাযথ মার্কেটিং করে আপনিও আয় করতে পারেন হাজার হাজার টাকা ।

মোবাইল মার্কেটিং- মোবাইলে বিভিন্নভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং করে আয় করা যায়, যেমনঃ এস,এম,এস মার্কেটিং,পুস নোটিফিকেশন, অ্যাপভিত্তিক মার্কেটিং, গেমিং মার্কেটিং এবং কিউ,আর কোড ।

এর সবক’টিতেই মার্কেটিং এর বিশাল সুযোগ রয়েছে যেখানে কাজের মাধ্যমে আপনিও আপনার আয়ের উৎস্য খুঁজে নিতে পারেন ।

ই-মেইল মার্কেটিং- ইমেইলে আমরা প্রায়ই বিভিন্ন প্রমোশনাল ইমেইল পেয়ে থাকি। এগুলোই ইমেইল মার্কেটিং । আপনি আপনার টার্গেট ক্লাইন্টের কাছে আপনার পণ্য কিংবা সেবার ইমেইল দিয়ে খুব সহজেই আপনার মার্কেটিং করতে পারেন।

কিন্তু সেক্ষেত্রে আপনাকে হতে হবে দক্ষ কেননা গ্রাহক এসব ইমেইল প্রায়শই ইগনোর করেন। তাই আপনার ইমেইল টেমপ্ল্যাট হতে হবে আকর্ষণীয় এবং বুদ্ধিদীপ্ত ।

জ্বী , হ্যাঁ ! আপনি ঠিক ধরেছেন । উপরের লেখাগুলো পড়তে পড়তে যখন আপনার চোখ চরকগাছ , ঠিক সে সময়ে আপনার চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সময় । আর এগিয়ে যাওয়া এই ডিজিটাল যুগে ডিজিটাল মার্কেটিং এর তাই বিকল্প নেই । তাই সময় থাকতে স্বল্প সময়ে শিখে আর বুঝে নিন পুরো ব্যাপারটি । তাহলে এই ডিজিটাল মার্কেটিং-ই হতে পারে ভবিষ্যৎ জীবনে আপনার উপার্জনের প্রধান হাতিয়ার ।

শিখুন ডিজিটাল মার্কেটিং, হোন সাবলম্বি !