কেন ফেসবুক পেজের পরিবর্তে ই-কমার্স সাইট বেছে নেবেন

কেন-ফেসবুক-পেজের-পরিবর্তে-ই-কমার্স-সাইট-বেছে-নেবেন

কেন ফেসবুক পেজের পরিবর্তে ই-কমার্স সাইট বেছে নেবেন ?

কি খুব ফুরফুরে মেজাজে আছেন ? নতুন ব্যবসা, ফেসবুক পেইজ ,এত এত লাইক! নিজের সব পণ্য তুলে ধরছেন পেইজে । ভাবছেন ব্যবসা দাঁড়িয়ে যাচ্ছে ?

না ! আপনি খানিকটা ব্যাক-ডেটেড ভাবনায় ডুবে আছেন ।

চলুন আপনাকে একটা মজার ব্যাপার দেখাই । আপনার ফেসবুক পেজের কমেন্টগুলো খেয়াল করুন। পেজের ইনবক্সটা একটু ঘেঁটে আসুন ।

দেখুন তো কি খুঁজে পাচ্ছেন ?

পণ্যের গুণগত মান আর দাম নিয়ে ক্রেতার প্রশ্নগুলো দেখে নিশ্চই বুঝতে পারছেন আপনার টার্গেট কাস্টমাররা আপনার পণ্য কিংবা আপনার উপর পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছেন না ।

তার মানে আপনি সঠিক ইমপ্রেশনটা তৈরী করতে পারছেন না ।

হ্যাঁ ! আপনার ই-কমার্স সাইটটি আপনার সেই ব্যবসায়িক ইমপ্রেশনটাই তৈরি করে দিবে । একটা কমপ্লিট ভাল মানের ই-কমার্স সাইট আপনার ব্যবসার মূল কাঠামো হিসেবে কাজ করবে যা কি না আপনার ব্যবসার অন্যান্য বিষয়ের উন্নতির জন্যেও ফলপ্রসু হবে ।

চলুন একনজরে দেখে নেয়া যাক সেই ব্যাপারগুলো ঃ

ফাঁকা মাঠে গোল দিন ঃ এটা ভেবে বসে থাকার দরকার নেই যে , আপনার কাস্টমার শুধু আপনার পেইজে লাইক দিয়ে শুধু আপনার পণ্যই দেখছেন । সে একই সাথে আপনার পেজের মতো অসংখ্য পেজে লাইক দিয়ে ঢুঁ মারেন । তাই এসব লাখ লাখ পেজের ভীড়ে আপনার হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাটাই বেশি ।

ফেসবুকে বর্তমানে প্রায় ৫০ মিলিয়ন একটিভ বিজনেস পেজ রয়েছে । একবার ভাবুন তো এই বিশাল সংখ্যার সাথে টক্কর দেওয়া সহজ নাকি ইউনিক ই-কমার্স পেজ খুলে ইউনিক ওয়ে-তে ব্যবসা করা সহজ ?

কাস্টমারের ভালবেসে তাকিয়ে থাকুক আপনার দিকেই ঃ ফেসবুকে একজন কাস্টমার তার হোম পেজে আপনাকে পেলেও স্ক্রল করার সাথে সাথে হারিয়ে যান আপনি । ‘লাভ এট ফার্স্ট সাইট’ না হলে কিন্তু এক্ষেত্রে আপনি আপনার কাস্টমারের নিরবিচ্ছিন্ন মনযোগ পাবেন না ।

কিন্তু অপরদিকে, কেউ যদি আপনার সাইটে ভিজিট করে তার একমাত্র মনোযোগ  কিন্তু আপনার দিকেই । আর সেই মনোযোগ যদি একবার কেড়ে নিতে পারেন আপনার বিশ্বস্ততা দিয়ে, তাহলে আপনাকে আর পায় কে ! আর তখন এই এক কাস্টমারই হয়তো আপনার বাকি ১০ জন কাস্টমারের জন্যে রেফারেন্স হিসেবে কাজে লেগে যাবে ।

খুঁজলেই যেন দেখা মেলে আপনার ঃ খুব সহজ করে বললে সাধারন কাস্টমাররা আপনাকে  ফেসবুকের সার্চ বারে কিংবা গুগলে সার্চ করে খুঁজবে । সেক্ষেত্রে আপনার এমন একটা মাধ্যমে নিজের অস্তিত্ব রাখতে হবে যেখানে আপনাকে খুঁজে নেয়া সহজ আর প্রতিযোগীতাও কম ।

ধরুন, কেউ একজন অনলাইনে ছাতা কিনবে ।আর আপনিও আপনার ই-কমার্স সাইটে ছাতা বিক্রি করে থাকেন । সে যখন ফেসবুকে এমন পেইজ খুঁজবে যেখানে ছাতা পাওয়া যায় ,তখন ফেসবুক তাকে এমন মিলিয়ন পেজ রেফার করবে যেখানে আপনার অপটিমাইজেশন করে টিকে থাকা মুশকিল ।

সেক্ষেত্রে, আপনার যদি একটা ই-কমার্স সাইট থাকে তাহলে আপনার কাস্টমার সহজেই আপনার ইউনিক সাইটটি খুঁজে পাবেন । যা আপনার ব্যবসার মুনাফার জন্যে সহায়ক।

আগে তো দর্শনধারী তারপর গুণ-বিচারি ঃ গ্রাম বাংলায় বহুল প্রচলিত এই কথাটির অনুসারেই বলি , কাস্টমার আগে আপনার পণ্যের ডিসপ্লে দেখবে । পরে এর গুণাগুন বিচার করবে । তাই আপনার পণ্যের ডিসপ্লে হতে হবে ইউনিক , চমদপ্রদ এবং সহজ ।

এজন্য সবচেয়ে ভাল মাধ্যম হচ্ছে ই-কমার্স সাইট । কেননা, ফেসবুক পেজে আপনার ডিসপ্লে খুব একটা পরিবর্তনের সুযোগ নেই কিন্তু একটা ই-কমার্স সাইট পুরোটাই আপনার । আর সেটা কিভাবে সাজাবেন, প্রদর্শন করবেন কিংবা মেইনটেইন করবেন তার পুরোটাই নির্ভর করবে আপনার উপর। তাই ফেসবুক পেজের চেয়ে ই-কমার্স সাইট-ই হবে আপনার জন্যে উপযুক্ত মাধ্যম ।

আপনি নিজেই হোন আপনার ব্যবসার সিকিউরিটি গার্ড ঃ

আপনার ই-কমার্স সাইটটি আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা শো-রুম । তাই এর নিরাপত্তার ব্যাপারটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোন গুপ্তচর কিংবা হ্যাকার যেন মুহূর্তেই সব তছনছ করে দিতে না পারে তাই ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়টিকে মাথায় রাখতে হয় আলাদাভাবে।

আর এক্ষেত্রে একটি ভাল মানের ই-কমার্স সাইট আপনাকে একটা ফেসবুক পেজের চেয়ে হাজারগুণ বেশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তাই স্বিদ্ধান্ত আপনার ।

ফেসবুক হোক আপনার সাইটের কর্মচারী ঃ

তবে আপনি কিন্তু কোনভাবেই ফেসবুককে ইগনোর করবেন না । ফেসবুককে ব্যবহার করুন আপনার একজন এমপ্লয়ির মতো । ফেসবুক হতে পারে আপনার সাইটের একটা ভাল মিডিয়া । এর মাধ্যমে কাস্টমার আপনার সাইট সম্পর্কে জানবে এবং এর মাধ্যমে আপনার সাইটে ভিজিট করবে । তাই ফেসবুক পেইজ ব্যবহার করুন শুধুই আপনার মার্কেটিং এর জন্যে । কিন্তু পুরো ব্যবসা চালানোর জন্যে এর উপর নির্ভর করবেন না ।

নিজের ব্যবসা নিজের নামে ঃ

আপনি হয়তো খেয়াল করে দেখেছেন আপনার ফেসবুক পেজটির নামের জায়গায় ফেসবুক জড়িয়ে আছে । এখানে আপনার কোন ইউনিক নাম নেই । ফেসবুক একটি থার্ড পার্টি টুল যা আপনি ব্যবহার করলেই এর নাম আপনার নামের সাথে যুক্ত হয়ে যায় ।

অপরদিকে , আপনার ই-কমার্স সাইটে এমনটি হওয়ার সুযোগ নেই । এখানে আপনি স্বতন্ত্র আর আপনার ব্যবসার নাম শুধু এর নিজের নামেই । যার ফলে আপনি খুব সহজেই আপনার নিজস্ব ব্র্যান্ড হিসেবে আত্নপ্রকাশ করতে পারবেন। আর এজন্যেই  একটি নির্ভেজাল ব্যবসা চালানোর জন্যে ই-কমার্সের বিকল্প বলে কিছু নেই ।

নিজের টাকা কি রাখবেন অন্যের পকেটে?

ফেসবুক পেজে কেনাকাটা করে পেমেন্ট করার জন্যে কোন ব্যবস্থা থাকেনা । কিন্তু একটা ই-কমার্স সাইটে খুব সহজেই ক্রেতারা ডেবিট কিংবা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পণ্য কিনতে পারেন । এতে করে ক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা যেমন বাড়ে , তেমনি আপনার লেনদেনও হয় ঝুঁকিমুক্ত ।

আপনার ক্রেতা কে ?

ই-কমার্স সাইটে খুব সহজেই আপনি আপনার ক্রেতার জন্যে একটা ডাটাবেজ করতে পারেন । কেনাকাটার সময় আপনার ক্রেতা রেজিষ্ট্রেশন করে নিলেই অটোমেটেড পদ্ধতিতে তৈরি হয়ে যায় আপনার ক্রেতার ডাটাবেজ । যার উপর নির্ভর করে আপনি খুব সহজেই ক্রেতাশ্রেণির জন্য পরিকল্পনা তৈরি করতে পারবেন ।

এছাড়া , ক্রেতারাও এখানে একটি করে ড্যাশবোর্ড পান যার মাধ্যমে খুব সহজেই সে তার কেনাবেচার বিস্তারিত তথ্য একসাথে পেয়ে যান ।

কিন্তু এর কোন সুবিধাই কিন্তু ফেসবুকে পেজে থাকে না ।

স্মার্ট ব্যবসায় কেন আন-স্মার্ট থাকবেন ঃ

নিঃসন্দেহে খুব আধুনিক মন-মানুসিকতার মানুষজনই অনলাইন ব্যবসার সাথে জড়িত থাকেন । তাই আপনার ব্যবসার প্রতিটি চিন্তায় আপনার সেই আধুনিক চিন্তা চেতনার ছাঁপ থাকা প্রয়োজন ।

ফেসবুকে আপনার ব্যবসার পণ্য প্রদর্শনী, ডাটাবেজ, পেমেন্ট সব কিছুই হয় ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে , যা আপনাকে কাস্টমারের কাছে খানিকটা বেক-ডেটেড করে তোলে । অপরদিকে, একটা ওয়েল-প্ল্যানড ই-কমার্স সাইটে কিন্তু ব্যবসার সবই হয় অটোমেটেড পদ্ধতিতে । তাই ক্রেতার কাছে আপনার ইমপ্রেশনটাও তৈরি হয় খুব দ্রুত ।

কিন্তু এতসব ব্যাপার তখনই আপনার ব্যবসার জন্য একটা ভাল সুফল বয়ে আনবে যখন আপনি একটা ভাল ই-কমার্স সাইট তৈরি করতে পারবেন এবং এটা যথাযথভাবে মেইনটেইন করতে পারবেন । অনলাইন ব্যবসার মূল বিষয়টাই যে জায়গায় ,সেটাতে পিছিয়ে থাকলে মুখ থুবড়ে পড়বে আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ।  আর এজন্যে এখনই কোন স্পেলালাইজড ওয়েব ডেভেলপারের সাথে আলোচনা করে বানিয়ে ফেলুন আপনার স্বপ্নের ই-কমার্স সাইট ।

একটা ভাল মানের ই-কমার্স সাইট হোক আপনার স্বপ্নের বুনিয়াদ ।